১২৬তম দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার কম্বোডিয়ার সিয়ামে

Breaking News: প্রধান সংবাদ বিবিধ শিক্ষা

নাজমুন নাহার:

আকাশে ধবল মেঘের আনাগোনা ছুঁতে ছুঁতে ঢাকার আকাশ থেকে প্লেনটি থাইল্যান্ড হয়ে পৌঁছে গেল কম্বোডিয়ায় আকাশ সীমানায়। পা রাখলাম দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায়। আমার বিশ্ব অভিযাত্রার ১২৬তম দেশ সিম রিপ শহরে উড়ালাম বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা‌

প্লেন থেকে নেমে ভোরের কম্বোডিয়ার দিকে চোখ মেলে তাকালাম, অপূর্ব লাগছিল। একটা নতুন দেশে নরম রোদের ঝলকানির মাঝে হালকা মৃদু বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নিলাম। যে কোন নতুন দেশে পা রাখার সাথে সাথে আমি এভাবে একটি নতুন দেশের মাটির ঘ্রাণ নেই। ভালো লাগে আমার কাছে।

তিন ঘন্টার ট্রানজিট শেষে থাইল্যান্ড থেকে যে প্লেনে করে আমি কম্বোডিয়া আসছিলাম সে প্লেনের বেশির ভাগ যাত্রী ছিল ইউরোপিয়ান আমেরিকান টুরিস্ট। ইমিগ্রেশন এর ভেতর সবাই একটা লম্বা টেবিলের এপাশ-ওপাশ দু’পাশে দাঁড়িয়ে যার যার ভিসা ফরম ফিলাপ করতে থাকল, চোখের নিমিষেই দেখলাম খুব দ্রুত সবাই ‘অন এ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

আমিও ইমিগ্রেশন ভিসা ফরম পূরণ করে সাথে এক কপি ছবি আর ৩০ ডলার দিলাম। বেশিক্ষণ লাইনে দাড়াতে হলো না, ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় আমাকে ভিসা দিয়ে দিল। কি তড়িৎকর্মা ওরা। একই কাউন্টারে এক পাশ দিয়ে ভিসা ফ্রম আর টাকা জমা দিলাম ঠিক একই কাউন্টারের অন্যপাশ থেকে ভিসা নিয়ে নিলাম।

ইমিগ্রেশন অফিসার হাসি হাসি মুখে আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন সবকিছু। আমার মিশনের কথা শুনতেই তিনি আমাকে ইমিগ্রেশনের গাড়ি দিয়ে হোস্টেলে পৌঁছে দিতে চাইলেন। কিন্তু আমি বললাম না আমি নিজেই যেতে পারবো।

থাইল্যান্ড ট্রানজিটে বডিং চেকিং লাইনে আমার সাথে পরিচয় হয়েছিল স্যামুয়েল লামা’র সাথে! ছেলেটি হাফ নেপালি হাফ ফ্রেঞ্চ। ওর বাবা নেপালি মা ফ্রেঞ্চ। মজার ব্যাপার হচ্ছে ও দু একটা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারে। কথায় কথায় বলে উঠল ওর বাবার পূর্বসূরিরা বাঙালি। রিসার্চের কাজে কম্বোডিয়া আসছিল স্যামুয়েল।

আমরা একই প্লেনে কম্বোডিয়া এসেছিলাম। এয়ারপোর্ট থেকে শহরে আঙ্কর ওয়াট মার্কেট স্ট্রিটে ও আমার সাথে আসতে চাইল। ম্যাপ দেখে আমরা চেক করলাম আমার হোস্টেল থেকে ওর হোস্টেল সাত মিনিটের ওয়াকিং ডিসট্যান্স। ও আমাকে বলল আমাকে হোস্টেলে নামিয়ে তারপর সে হেঁটে যাবে তার হোস্টেলে।

এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমরা একটা টুক টুক নিলাম। কম্বোডিয়ান টুকটুকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন রকম। এদের টুকটুক দেখে খুব মজা পেলাম। একটা হোন্ডার পেছনের সিট এর সাথে বাধা আরেকটি দুই চাকার ত্রিকোণাকৃতি সম্বলিত চারটা সিটের এক্সট্রা অটো। আমরা চার ডলার দিয়ে পৌঁছে গেলাম আংকর ওয়াট মার্কেট স্ট্রিটের ওয়ান ডাজ ট্রাভেলার্স ইয়ুথ হোস্টেলে।

এই হোস্টেলটি এই শহরের সবচেয়ে হাই রেটিং ট্রাভেলার্স হোস্টেল। কিন্তু বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৬০০ টাকায় আমি ফিমেল ডরমের একটা সিট বুকিং দিয়েছিলাম আগে থেকেই। হোস্টেল রিসিপশন হল রুমে ঢুকেই দেখলাম সারা পৃথিবী থেকে আসা অনেক ইয়াং ছেলে মেয়েরা বসে আছে। তারা সবাই এই হোস্টেলে বাসিন্দা। হোস্টেলটি দারুন পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে।

হল রুম থেকে স্যামুয়েলকে বিদায় দেওয়ার সময় আমি কিছুক্ষণ কথা বলছিলাম বাংলাদেশ নিয়ে। হঠাৎ করে কেউ একজন পিছন থেকে এসে আমার পাশে দাড়িয়ে হাসতে হাসতে বলছে- ‘খুব সুন্দর! ভালোবাসি। কেমন আছো? ডানে-বামে সোজা যাও- রিক্সা। ছেলেটির কথা শুনে আমি হেসে ফেললাম। বুঝলাম কিছু বাংলা শব্দ সে ভালোই রপ্ত করেছে। জানতে চাইলাম তুমি কে? ছেলেটি বলল আমি একজন ইরানি পাইলট। বাংলাদেশে গত ছয় মাস আমি একটি এয়ারলাইন্স কোম্পানিতে চাকরি করেছিলাম। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরে থাকতাম। গত সপ্তাহে প্রজেক্টের কাজ শেষে বাংলাদেশ থেকে আমি কম্বোডিয়ায় এসেছিলাম ঘুরতে। বাংলাদেশ নিয়ে তার নানান অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম। এরমধ্যে স্যামুয়েল আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।

আমি হোস্টেল রুমে ফিরে গেলাম। বিছানায় মাথা দিতে ক্লান্ত শরীর আমাকে গভীর ঘুমের রাজ্যে নিয়ে গেল। টানা ৪ ঘন্টা ঘুমালাম। জানলা দিয়ে তাকাতেই বিকেলের আকাশ আমাকে দোলা দিয়ে গেল একটুখানি নরম রোদের পরশ দিয়ে।

হঠাৎ মনটা আমার ছুটে গেল বাংলাদেশের গত ৩ মাস সফরের স্মৃতিতে। বিদেশে আসার পর থেকে এটি ছিল আমার বাংলাদেশ সফরে সবচেয়ে বেশি সময় থাকা। বিদেশের মাটিতে যতবারই পা দেই কিন্তু মন আমার মিশে থাকে মাতৃভূমির সেই ছায়া মায়া তলে। মনের অজান্তেই চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল আমার। মানুষ যখন নিজের দেশ থেকে প্রিয়জনদের ছেড়ে দূরে চলে আসে তখন অনুভূতিগুলো প্রচন্ড প্রখর হয়ে যায়। খুব গভীর ভাবে আমরা পেছনের সব কথা চিন্তা করতে পারি। আমার হৃদয়ের ক্যানভাস জমা হয়েছিল অনেক কথা। অনেক স্মৃতি।

প্রতিবারই মা যখন আমাকে বিদায় দেন তখন খুব হাসি মুখে বিদায় দেন। আমাকে বিদায় দেওয়ার সময় মাকে আমি কখনো কাঁদতে দেখিনি। প্রথম যখন বিদেশ পারি জমিয়েছিলাম পড়াশোনার উদ্দেশ্যে

তখন আমার ভাই-বোনরা আমার জন্য কেঁদেছিল। আমার মনে আছে মা তাদের কে বলেছিলেন তোরা কাঁদিস না। তোরা কাঁদলে ও কাঁদবে তখন ওর মাথা ব্যথা করবে। সব সময় ওকে হাসি মুখে বিদায় দিবে। কোন কিছুতেই যেন আমার শারীরিক মানসিক কষ্ট না হয় সেটা আমি সারা জীবনই দেখেছি মা আমার দিকে খেয়াল রেখেছেন শত কষ্ট হলেও। আমার আম্মা খুব বুঝদার মানুষ। সব সময় পরিস্থিতি বুঝিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন। আমার ভাই বোনদের কাছে আমি তাদের সন্তানের মতোই, এখনো তারা প্রায়ই আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়।

এরপর থেকে আমরা সব সময় জোর করে হলেও হাসি হাসি মুখে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করেছি। গতকাল ঠিক তাই করেছিলাম। আমাদের হৃদয়ের সবারই একটু কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু আমরা তা প্রকাশ করিনি।

বাড়ির গেট থেকে বেরিয়ে আম্মা যখন আমাকে মাথায় হাত দিয়ে বিদায় দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন বাবা ঠিক মত খাওয়া খেও। বিশ্ব জয় করার জন্য তোমার শরীরে অনেক শক্তি প্রয়োজন। মাকে হাসিমুখে বললাম তা ঠিক। গত তিন মাসে মা আমাকে বলা যায় নাকে-মুখে খাইয়েছেন। আমার ভাই মজা করে আমার এই প্রজেক্টর নাম দিয়েছেন ‘খা খা প্রজেক্ট’! খাওয়াতে পারলে মায়ের চোখে দেখা যেত

রাজ্যের আনন্দ। মা জানতেন কত না হাবিজাবি খেয়ে আমি আমার বিশ্ব অভিযাত্রা পার করেছি। আসার সময় আমার ভাইয়া হেসে বললেন আম্মার খা খা প্রজেক্টতো আর ওখানে পাবি না, আম্মাতো আর দেখবে না তুই কি খেয়ে থাকিস। তাই প্রতিদিন খাওয়ার সময় আমাকে একটা ছবি তুলে পাঠাবি।

হঠাৎ চোখ পড়ল আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশের ছোট্ট গাছটির দিকে। প্রতিদিন আমি বের হলেই দেখতাম সুন্দর একটা পাখি কিচির মিচির আমাকে দেখলেই। আজ আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে দেখে ও কিচিরমিচির করে যাচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে। পাখিটাকে ছুঁয়ে দিতে খুব ইচ্ছে করলো। আমি জানি ছুঁতে গেলেই ও উড়াল দিবে। তাই দূর থেকেই হাত নাড়িয়ে ওকে বললাম যাই পাখি ভালো থেকো। আমিও আজ উড়াল দিতে যাচ্ছি। অনেকদিন থাকলে সব কিছুর জন্যই কেমন যেন মায়া মায়া লাগে। আমাদের বাড়ির সবচেয়ে ছোট্ট বাচ্চাটার নাম মেহেরিমা। আড়াই বছর বয়সের আমার ভাতিজি। গাড়িতে উঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ও আমার দিকে একটা ফুল দিয়ে বলল সোহাগা নাও এটা তোমার জন্য। খুব অবাক হলাম, ওকে একটু আদর করে দিলাম। কথা বলতে শেখার পর থেকেই ও আমাকে সোহাগা বলে ডাকে।

আমি গাড়ির ভিতরে চড়ে বসলাম। আম্মা আমাকে গাড়ির জানালার কাঁচের ওপার থেকে হাত নাড়িয়ে হাসি মুখের আবার বিদায় দিলেন। উত্তরা থেকে ১০ মিনিটের দূরত্বে কারটি ছুটে চলল এয়ারপোর্টের দিকে। আমার মাত্র ৭ কেজি ব্যাকপ্যাক, তাই আর চেকিং ইন করতে হলো না। বডিং পাস টা নিয়ে জোরে হাঁটতে থাকলাম ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলের দিকে। ইমিগ্রেশন অফিসার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন আপনাকে আমি চিনি। এবার কোন দেশে যাচ্ছেন আবার কবে ফিরবেন ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কথাই জিজ্ঞেস করলেন কাজ করতে করতে।

ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল পার হওয়ার সাথে সাথেই ওপার থেকে আমার বোন ফোন দিয়ে বললেন ইমিগ্রেশন অফিসার তোকে এতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখলেন কেন? বললাম উনি ভালো মানুষ, আমাকে পৃথিবীর কথা, অভিযাত্রার কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। উনি ভালো কিন্তু একটু আক্কেল কম, উনি দেখতে পাচ্ছিলেন না পিছনে কতগুলো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। বললাম আমার করার কিছু ছিলো না, আমার সাথে কথা বলার জন্য উনি একটু আস্তে আস্তে কাজ করছিলেন। ইমিগ্রেশনের গেট থেকে ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলো। আমি দৌড়াতে থাকলাম। আমার প্লেন ছাড়া আর কিছুক্ষণ বাকি।

সিকিউরিটি প্রশ্নের সামনে যেতে যেতে হঠাৎ করে পিছন থেকে একজন চিৎকার করছে এই যে এই যে আপনি কি নাজমুন নাহার?

ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে বললাম হা। উনি দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, হাসতে হাসতে বললেন আমি অনেকবার আপনাকে পত্রিকায় পড়েছি। আমি আপনাকে অনেক পছন্দ করি। আমি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারলাম না। দৌড়াতে থাকলাম, বারবার মনে হচ্ছিল ভালোবাসা আদান প্রদানের জন্য যদি আরেকটু সময় পেতাম।

আহা এই মানুষগুলো আমাকে অনেক ভালোবাসে। এবার রাস্তায়, মার্কেটে বহুবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে আমার অভিযাত্রার সময় ঘটে যাওয়া দুর্গম এলাকার ঘটনা গুলো বলা শেষে মঞ্চ থেকে নামার পর বহুবার অনেক মানুষ আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন আবেগে ভালোবাসায়। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অনেকের সাথে এবার দেখা হয়েছিল। একজনতো এবার অনেক ক্ষন জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলেছিলেন। বলছিলেন যুদ্ধের সময় তাদের পরিবারের অনেকেই মারা গেছেন তাই তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে আমার এই অভিযাত্রাকে অনেক অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। এসব মানুষগুলোর রিদম, ভালোবাসা উৎসাহ আমি খুব বেশি করে টের পাই

যখনই আমি নতুন কোন দেশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে।

আমি জানি আমরা যারা লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তলে বেড়ে উঠেছি এদেশের জন্য আমাদের অনেক ঋণ। এই দেশটিকে ভালো রাখার জন্য, এই দেশের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য আমাদের সবাইকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে থেকে কাজ করতে হবে।

যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা আমার জন্য কলম ধরেছেন, আমার অভিযাত্রার গল্পগুলো বাংলাদেশের পতাকা হাতে দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার কথা গুলো লক্ষ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, যারা আমাকে অনেক বড় বড় অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন সম্মাননা দিয়েছেন,

আমার জীবনের উপর তথ্যচিত্র বানিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমাকে মঞ্চে পৃথিবীর গল্প শুনানোর সুযোগ করে দিয়েছেন শিশু তরুণ সহ বহু মানুষের সামনে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনারাই সকল মানুষের সাথে আমার জন্য একটি সুন্দর ব্রিজ তৈরি করেছেন। এই দূর দেশ কম্বোডিয়া থেকে আপনাদের জন্য আমার শ্রদ্ধা ভালোবাসা। আমার সকল প্রাপ্তির অংশীদার আপনারাও।

খমের সাম্রাজ্যের সহস্রাব্দ পুরাতন মন্দির ধ্বংসাবশেষ আঙ্গকর ওয়াটের গেটওয়ে হিসাবে ব্যাপকভাবে বিখ্যাত সিম রিপ নামক এই শহর থেকেই লাল সবুজের পতাকা উড়াতে উড়াতে আমি সড়ক পথে অভিযাত্রা করবো কম্বোডিয়ার বিভিন্ন শহর হয়ে লাউস, ভিয়েতনাম, মায়ানমার হয়ে চায়না পর্যন্ত। এবারের এই পাঁচটি দেশে অভিযাত্রা শেষে চায়না থেকে সুইডেনের উদ্দেশ্যে রওনা হব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। রমজানে সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। বাংলাদেশকে সবাই ভালো রাখবেন। বাংলাদেশ যাবে বিশ্বময়।

কম্বোডিয়া জয়ের ডায়েরি থেকে

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *