সৈয়দ আশরাফের মরদেহ আসছে আজ, দাফন রোববার

Breaking News: জাতীয় প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ দেশে আসছে আজ শনিবার সন্ধ্যায়। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা মরদেহ গ্রহণ করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় মরদেহ রাজধানীর বেইলি রোডে সৈয়দ আশরাফের সরকারি বাসভবনে নেওয়া হবে। পরে তার দেহ রাখা হবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে।

এদিকে, আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ তার নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ঢাকায় এনে বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্ম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দুই মেয়াদে ওই দায়িত্ব পালনের পর তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
জাতীয় চার নেতা ১৯৭৫ সালে কারাগারে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চলে যান আশরাফ। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জের এই আসন থেকে নির্বাচন করে তিনি সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সৈয়দ আশরাফ এক কন্যা সন্তানের জনক।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনা কারাবন্দি হলে আওয়ামী লীগের যে কয়জন নেতা দলের হাল ধরেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *