স্থায়ীভাবে দেশে ফিরছেন কি আশরাফকন্যা রীমা?

Breaking News: প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ মারা গেছেন কয়েকদিন আগে। তাকে জাতি স্মরণ করে কৃতজ্ঞচিত্রে। তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তার মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার একমাত্র কন্যা বিদেশে থাকেন। কিন্তু রাজনীতিতে তাকে নিয়ে চলছে এখন নানান হিসাব-নিকাশ। কেউ বলছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে তার স্থান দেওয়া দরকার। এ সব নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

সৈয়দ আশরাফের একমাত্র মেয়ে সৈয়দা রীমা ইসলাম স্থায়ীভাবে দেশে ফিরছেন পারিবারিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে হারিয়েছেন মা-বাবা দু`জনকে। হয়েছেন বাকরুদ্ধ, স্বজন হারানোর ব্যথায় কাতর। আপনজন হারিয়ে চারপাশে যেন কেবলই শূন্যতা। তবে মনকে শক্ত করে কাটিয়ে উঠতে চান শোক। লন্ডনের কর্মস্থলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর মমতাময়ী মা শীলা ইসলামকে হারান রীমা ইসলাম। জীবনের প্রথম সেই ধাক্কাটি সামলে উঠেছিলেন বাবা সৈয়দ আশরাফের স্নেহের স্পর্শে। কিন্তু বছর পেরোতেই শেষ আশ্রয় বাবাকেও হারালেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন রীমা। সেখানেই এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। লেখাপড়া শেষ করে লন্ডনেই ব্যাংকে চাকরি করছেন। হংকং-সাংহাই ব্যাংক করপোরেশনে (এইচএসবিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। গত বছরের ৩ জুলাই সৈয়দ আশরাফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি হন।

অসুস্থ বাবার শুশ্রূষার জন্য কর্মস্থল ছেড়ে ব্যাংককে ছুটে আসেন রীমা। আশা ছিল উন্নত চিকিৎসায় অচিরেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার তার বাবা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগের মতোই ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান সৈয়দ আশরাফ। সৈয়দ আশরাফের পরিবারের সদস্যরা জানান, রীমা জানতেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার বাবা একজন জনপ্রিয় মানুষ। কিন্তু এতটা জনপ্রিয় ছিলেন, তা কখনও ভাবেননি। ব্যাংকক থেকে বাবার মরদেহ নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর শোকার্ত হাজারো নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের আহাজারি দেখে রীমার চোখে জমেছিল শোক-বিহ্বল গর্বের অশ্রুবিন্দু। জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায় প্রথম জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে দ্বিতীয় জানাজায় তিন লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি এবং ময়মনসিংহ শহরে তৃতীয় জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রীমা। এমন একজন বাবার সন্তান হতে পেরে যুগপৎ গৌরব ও অহঙ্কারও অনুভব করেন।

কর্তব্যের টানে গত মঙ্গলবার বাবার শেষ চিকিৎসাস্থল ব্যাংকক গেছেন তিনি। সেখানে হাসপাতালের বকেয়া দেনা ও বকেয়া বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে ফিরে যাবেন নিজের কর্মস্থল লন্ডন শহরে।

রীমা ইসলামের চাচা (সৈয়দ আশরাফের চাচাতো ভাই) সৈয়দ তারেকুল ইসলাম ভিক্টর জানান, বাংলাদেশের আপামর মানুষের ভালোবাসা দেখে এবং পিতার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা দেখে রীমা অচিরেই দেশে ফিরে আসার চিন্তা করছেন। লন্ডনে চাকরি ছাড়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সহসাই তার ফিরে আসার কথা রয়েছে।

বাবার মতোই মৃদুভাষী, শান্ত ও ধৈর্যশীল তরুণী রীমা। শোলাকিয়া মাঠে বাবার জানাজার সময় পাশেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন তিনি। এ সময় তাকে দেখে আগামীর সম্ভাবনার ইঙ্গিত খুঁজে পান উপস্থিত মানুষ। কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে রীমা তার বাবার উত্তরসূরি হতে পারেন- এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে। তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, সৈয়দা রীমা ইসলামই হতে পারেন কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের যোগ্য উত্তরসূরি। তার মধ্যে প্রয়াত পিতার ব্যক্তিত্ব এবং দেশপ্রেম স্পষ্ট।

এখন দেখার অপেক্ষায় সৈয়দ আশরাফের কন্যা দেশে ফিরে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে নামেন কি না। তা নিয়ে সৈয়দ আশরাফের অসম্পূর্ণ কাজগুলো তিনি শেষ করতে পারেন। সব চেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে সৈয়দ আশরাফের আসনে উপনির্বাচনে সে অংশ নিবে কি না এটাই দেখার বিষয়। একদিকে তার কাছে বিদেশে লোভনীয় চাকরি-সুখ বিলাস আর একদিকে মাটির টান। সব মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন বেশ কঠিন হবে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *