সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

Breaking News: প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমাদের কাছে প্রমাণসহ তথ্য আছে। গত সোমবার (১০ ডিসেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু নেতাকে নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের মাঠে নামাতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার। একটি পর্যায়ে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু

সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলা চালাবে। প্রয়োজনে বড় ধরনের নাশকতাও করতে পারে। পরে এসব হামলা ও নাশকতার দায়ভার চাপাবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ওপর। এসব ঘটনার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, যারা এখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলা করতে পারে তারা ক্ষমতায় আসলে পরিস্থিতি কী হবে?’

বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব অভিযোগ করেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে টেলিফোনে বলছেন, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা-মামলার সংবাদ যেন ছাপানো না হয়।

বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য যা যা করা দরকার আওয়ামী লীগ তাই করবে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বানচালও করে দিতে পারে তারা। সেই কারণে আমরা বুধবার দলের পক্ষ থেকে আজকেই সেনা মোতায়েনের দাবি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির ঘণ্টা খানেক পরেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের দিনের পাঁচদিন আগে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী চেতনায় সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনি মাঠ বিরান ভূমিতে পরিণত করবে। তবে আমরা সব বাধা অতিক্রম করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটের লড়াই করে যাবো। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণই আমাদের শক্তি।’

রিজভী বলেন, ‘সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে নৌকাডুবির। এখন পতনের ক্ষণ গণনা চলছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছে ক্ষমতা এবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘সারাদেশে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে মহড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তারা মিথ্যা মামলা দায়ের ও গণগ্রেফতারের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেফতারের নামে মানুষকে পণ্য বানিয়ে বাণিজ্য করছে পুলিশ। বিনা কারণে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। নতুন নতুন মামলায় বিস্ফোরক ও মাদক দিয়ে কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এসব জানিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের কোনও কথা শুনছে না বা নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। আওয়ামী লীগের সব কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন গণগ্রেফতার বন্ধ করতে বললেও পুলিশ এসব আমলে নিচ্ছে না।’

পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘পুলিশের প্রতি আমাদের অনুরোধ, নির্বাচনি হাওয়া কাদের অনুকূলে বইছে সেটি উপলদ্ধি করতে চেষ্টা করুন। আপনারা সরকারের কথা বিশ্বাস করে জনগণের প্রতিপক্ষ হবেন না। জনগণের পক্ষে দাঁড়ান। দুঃশাসনের অবসানের জন্য আপনারাও অবদান রাখুন।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *