শাসক হিসেবে এরশাদের সাফল্য

Breaking News: জাতীয় প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মৃত্যুতে রাজনীতে বড় ক্ষতি হলো বলে রাজনীতিবিদরা দাবি করছেন। তিনি শাসক হিসেবে মানুষের মনে একটা স্থান দখল করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রের অসংখ্য ভালো কাজ করেছেন। অনেক ভালো কাজের মধ্যে নিম্নে কয়েকটি তুলে ধরা হলো-
মহকুমাকে জেলায় পরিণতকরণ

৪২টি মহকুমাকে জেলায় পরিণত করেন এরশাদ। এতে বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা হয় ৬৪টি।

২) উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি

১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর-এর মধ্যে ৪৬০ উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ৩) শান্তি মিশনে সৈনিক পাঠানো

সব রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য পাঠিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বদুয়ারে উজ্জ্বল করেন এরশাদ।

৪) শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা

এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের আগে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও রোববার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। তিনি গরিবের হজ ‘জুমার নামাজ’ কে প্রাধান্য দিয়ে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেন।

৫) রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা দেন পল্লীবন্ধু এরশাদ।

৬) উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিল মওকুফ

ক্ষমতা অধিগ্রহণের পর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করেন।

৭) পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এ ছুটির পরই বাঙালিরা এ দিনকে আরও বর্ণিলভাবে উদযাপন করতে শুরু করে।

৮) হাইকোর্টের বেঞ্চ সম্প্রসারণ

বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রংপুর, যশোর, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট এবং চট্টগ্রামে ৬টি হাইকোর্টের বেঞ্চ সম্প্রসারণ করেন এরশাদ।

এদিকে, আজ থেকে ৬৩ বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রওশন এরশাদ। দীর্ঘ জীব এক সঙ্গে কাটিয়েছেন। হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ আজ না ফেরার দেশে। আর প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে অঝরে কাঁদচেন রওশন এরশাদ। মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে শোক বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি।

শোক বার্তায় বিএনপির মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীরভাবে দলের পক্ষে শোক প্রকাশ করেন। এরশাদকে তাকে দাফন করা হবে রাজধানীর সেনা কবরস্থানে। আজ রোববার বিকেলে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এই নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের প্রথম জানাজায় অংশ নেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার মরদেহ কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের দেখার জন্য রাখা হবে। এরপর বাদ আছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার মরদেহ পুনরায় সিএমএইচ-এর হিমঘরে রাখা হবে।

তৃতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ রংপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার মরদেহ আবার হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে এসে বাদ জোহর সেনা কবরস্থানে দাফন করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *