রোহিঙ্গা তুমি সমস্যা

মতামত

আরিফ হাসান:

কিছু দিন আগে ফেইসবুকে সাত বছর আগে আমার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়কার একটা ছবি শেয়ার করেছি। ভালো মন্দ অনেক ধরনের কমেন্ট ই আসছে। স্যার রা ছবিতে শুভাশিস দিয়েছেন। হুট করে,আমার এক পরিচিত বন্ধু কমেন্ট করে বলছে-“তোদের রোহিঙ্গাদের মত লাগছে”..! ত্রিশাল কাঁচা বাজারে গিয়েছিলাম শাকসবজি মাছ কেনাকাটার জন্য। রিকশা থেকে নেমে একটু এগুচ্ছি কানে আসলো এক অটোওয়ালা প্যাসেঞ্জার কে বলছে-“মামা,রোহিঙ্গাদের মত আচরণ করবেন না”.! আজ সকালে হাটাহাটি শেষে বটতলায় গেলেম চা খেতে। দেখলাম পনের বিশেক লোক চায়ের অপেক্ষায়। আমাকে দেখে চায়ের দোকানদার টুল এনে বললেন-স্যার বসেন। আর চা বানিয়ে দিলেন বেশ দ্রুত। তাকে জিজ্ঞেস করলাম আজ ভিড় এত কি ব্যাপার.?সে বলল- “স্যার আর কইয়েন না,সব রোহিঙ্গা”.!

তিন দিনের তিন অনুভূতি। আচ্ছা,এই রোহিঙ্গা কি.! এরা কেমন.! মানুষ নাকি অন্য কিছু.!এরা ভাত খায়.! হাটাহাটি করে.! এরা প্রাণী নাকি এলিয়েন.! অং সান সূচি ইচ্ছা করেই নাকি রাখাইন এর এই মানুষ গুলোকে আমাদের দেশে পাঠিয়েছে.! পাঠিয়েছে তো ভালো কথা এখন ফিরিয়ে নিক.! নিচ্ছেন না কেন.? পাঠক, অং সান সূচি কে চিনেন তো.? ওই মিয়ানমারের নেত্রী। নোবেল টোবেল পেয়েছেন আর কি.! আর পাওয়ার পরেই বলেছেন ধর ধর মানুষ ধর… মানুষ ধরে মানুষ মার..! যখন মানুষ মারার কথা নিরীহ মানুষগুলো জানতে পারল তখন তারা রাখাইন ছেড়ে আমাদের কক্সবাজারের কুতুপালং এ আশ্রয় নিল।আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন। মিয়ানমার চুপ.!কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে গত একবছরে এই রোহিঙ্গা শিবিরে ৬০-৭০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে.! কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিস বলছে আরও ১৮-২০হাজার গর্ভবতী নারী সনাক্ত করা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন গবেষণায় বলছে এই শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিন ১৩০ জন শিশু জন্ম নিচ্ছে.! দায়টা কার.! মিয়ানমার চুপ.!প্রথমত রাখাইন থেকে এসেই তারা আমাদের পাহাড়গুলো কেটে সমতল বানিয়ে নিয়েছে। বানাচ্ছে। মানুষের পাশে মানুষ হয়ে ত দারাতেই হয়। নইলে কিসের মানুষ.! কিন্তু এখন যদি আমাদের সব মুত্ত প্রাণে তাদের হস্তক্ষেপ হয়।তখন আর মেনে নেওয়া যায় না। মেনে নেয়া উচিৎ ও না।আমরা জাতি হিসাবে কখনোই কারা চাপিয়ে দেয়া অন্যয় হস্তক্ষেপ কক্ষনোই মেনে নেই নি ১৯৫২সালের ভাষা আন্দোলন তারই প্রমাণ।

আমরা মানবিকতা দেখিয়েছি মনুষ্যত্ব দেখিয়েছি তাই বলে ঘরের জানাই তো বানাতে পারব না ভাই।হাতে গনা কিছু মানুষের জন্য সেইখানকার তথা গোটা দেশের প্রাকৃতিক মানষিক জীবন যাপন বিঘ্নিত হচ্ছে। আর কত.! মিয়ানমার কেন তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না.? আবার উল্টো জাতিসংঘে রাখাইন কে বাংলাদেশের সাথে যুত্ত হবার প্রস্তাব করেন.!লজ্জা হওয়া উচিত বিশ্ব বিবেকের। নোবেল প্রাইজ নিয়ে ঠিক ই তো শোকেজে সাজিয়ে রেখেছেন। এখন একটু কাজে লাগান।আমরা শংকিত এই ভেবে যে,কোনদিন না আবার যুদ্ধ বাজিয়ে বসেন। এনার্জিটিক ইয়াবা ব্যাবসা তো আছেই আপনাদের মূলধন।ভাই,আমরা বাংগালী জাতি খুব শান্তি প্রিয়। তিন বেলা ভাত খাই মমতাজের গান শুনি আর মিষ্টি পান চাবাই।কোন গ্যারমার মধ্যে আমরা নাই। শ্রদ্ধার সাথে আশ্রয় দিয়েছি প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলতে চাইনা।আপনাদের জণগণ আপনাদের ই থাক।নিয়ে যান.! অনেক তো হল আর কত.! আমাদের পাহাড় সমুদ্র নদী বয়ে চলুক তার আপন স্বত্তায়।মিয়ানমার তুমি দেশ হিসাবে কেমন.? তোমার দেশে বাতাস বয়.? ছেলেমেয়েরা দারিয়াবান্ধা খেলে.?বৃষ্টি হয় ওখানে.? ওখানকার মায়েরা সন্তানদের দুধ খাওয়ায়.? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।আমি কিঞ্চিৎ বা পুরদমে বেকুব তো তাই.!আমি বারবার বলতে চাই হে ভদ্র প্রাণ শ্রবণ দর্শন পিপাসু বিশ্ববিবেক,বিনম্র চিত্তে শত সহস্র প্রণাম আপনার স্বত্তায়।পুষ্পের মঞ্জরী আপনাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের প্রতিটি পর্দাভেদ করে আবেগ কে দমন করে যুত্তির দরজায় কড়া নাড়ুক।কড়া নেড়ে বলুক কি ভালো আছেন তো.? সব ঠিক আছে তো.?

লেখক ও গবেষক: আরিফ হাসান।
নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগে কর্মরত। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিশাল ময়মনসিংহ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *