পাকিস্তানের হামলায় ভারতীয় দুই পাইলট নিহত ও আটক এক

Breaking News: আন্তর্জাতিক এশিয়া প্রধান সংবাদ

ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুই পাইলট পাকিস্তানের হামলায় নিহত হয়েছেন এবং একজন পাইলটকে আটক করেছে বলে পাকিস্তান দাবি করছে। আর ভারতরে পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় ৫ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার ভোরে ভারতের জম্মু-কাস্মিরের পলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানের কাস্মিরে ভারত বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইনডিয়া টুডের মাধ্যমে। দেশটির বিমানবাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া ট্যুডে বলছে, সীমান্ত রেখার কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও লঞ্চ প্যাডে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

১২টি যুদ্ধ বিমান এই অপারেশনে অংশ নেয়। মোট ১ হাজার কেজি বোমা ফেলে সন্ত্রাসবাদীদের ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ভারতের এই অভিযানের কথা স্বীকার করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে মুজাফফরাবাদ সেক্টরে অনুপ্রবেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। তবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপে ভারতীয় বাহিনী পালিয়ে যায়। এতে পাকিস্তানের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাক বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে ভারতের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের একটি যুদ্ধবিমানও ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ভারত হামলা চালিয়ে সফল হয়েছে। এক হাজার কেজি বোমা ফেলে সন্ত্রাসী ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জয়েশ-ই-মুহম্মদের কন্ট্রোল রুম সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

এরপর পর্যায়ক্রমে চকোটি ও বালাকোটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে জঙ্গিদের তিনটি ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় বাহিনী।

ভারতের মেজর জেনারেল একে সিভাচ এনডিটিভি’কে বলেন, অভিযান পুরোপুরি সফল হয়েছে। তবে নিজের সুরক্ষার প্রশ্নে ভারতকে এখন আরও সচেতন থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্সের’ গাড়িবহরে চালানো আত্মঘাতী হামলায় বহরের অন্তত ৪৪ সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জয়েশ-ই-মুহম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। ভারতের তরফ থেকেও হামলার জন্য ওই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়। একইসঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে দিল্লি। এ নিয়ে দুই দেশের তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্যেই এ বিমান হামলার ঘটনা ঘটলো।

এদিকে আরও জানা গেছে, এই হামলার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করেছেন। সীমান্ত পেরিয়ে যে স্ট্রাইক হয়েছে তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মোদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মতো প্রবীণ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানী সেনারা মঙ্গলবার অভিযোগ জানায় যে, ভারতীয় বায়ুসেনা মুজফরাবাদ সেক্টর-এ নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) উল্লঙ্ঘন করেছে।

পাকিস্তানের মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইট করে জানিয়েছে, ”ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান মুজফরাবাদ সেক্টর দিয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু পাকিস্তানী সেনারা উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে বালাকোটের কাছে বোমা ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। জনমানবের কোনো রকম ক্ষতি হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি, এএনআই, রয়টার্স।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *