শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহত ৩০০

Breaking News: আন্তর্জাতিক এশিয়া প্রধান সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা নিহত হয়েছেন ৩০০ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৫০০ জন। রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় একটি গির্জায়। এর এক মিনিট পরেই একটি ফাইভ স্টার হোটেলে দ্বিতীয় বোমা হামলা হয়। এর একটু পরেই তৃতীয় বোমা হামলাটি হয়। এভাবে আটটি বোমা হামলা হয়।

এ আত্মঘাতী হামলার পর দেশটিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারফু জারি করেছে দেশটির সরকার। এ হামলায় ৩৬ জন বিদেশি নাগরিক মারা গেছেন। বাকিগুলো শ্রীলঙ্কার নাগরিক। এ হামলার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ হামলা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের নাতি অর্থাৎ শেখ সেলিমের মেয়ের ছেলে নিহত হয়েছেন। আর বিদেশে নাগরিকদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ জন ব্রিটিশ নাগরিক মারা গেছেন। তার মধ্যে দুজন যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক। তিনজন ডেনিসের , একজন পর্তুগিজ, ভারতের তিনজন, তুরস্কের দুজন, নেদারল্যান্ডের একজন ও জাপানের একজন। দেশগুলোর নিজস্ব সংবাদ সূত্রে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

শ্রীলঙ্কার এই বর্বরোচিত হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন সারা বিশ্বের মানুষ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সর্বস্তরের মানুষ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শোক জানিয়েছেন দেশটির সবার প্রতি।

হামলার পরেই একজন প্রত্যাক্ষদর্শী বলেছেন, এটা ভয়াবহ হামলা। এ যেন রক্তের নদী। চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত।

দেশটির পুলিশ দাবি করেছে, এই হামলার ১০ দিন আগেই তারা এ রকম বার্তা পেয়েছিলেন। কিন্তু এটা এতো ভয়াবহ হবে তা অনুমান করতে পারেননি।

ধারনা করা হচ্ছে, ২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এতো বড় হামলা আর দেশটিতে ঘটেনি।
তবে, এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরের সময় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি বলেছেন, সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখান একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *