বেরোবিতে আবারও হলের নির্মাণ কাজ শুরু

Breaking News: অর্থনীতি ক্যাম্পাস প্রধান সংবাদ বিবিধ শিক্ষা

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর আবারো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নির্মাণাধীন ছাত্রী হল এবং পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে নির্মাণাধীন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে এবং গবেষণা কার্যক্রম সচল রাখতে ২০১৬ সালের এপ্রিলে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার আসনের শেখ হাসিনা ছাত্রী হল এবং ২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই বছরের ২১ জুলাই মেসার্স আব্দুস সালাম অ্যান্ড কোম্পানি ও মেসার্স হাবিব অ্যান্ড কোম্পানি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি ভবন দুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারছেন না তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কমলেশ চন্দ্র সরকার জানান, প্রকৌশলীর দুর্নীতির কারণে সময়মত বিল দিতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গতবছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে ভবন দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে চলে যায়। এতে করে বর্তমান প্রশাসন বিষয়টিতে নজর দিলে বিভিন্ন রকম অনুসন্ধান করে গতবছর ২৫ মার্চ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আগের কনসালট্যান্ট মনোয়ার হাবীব তুহিনের নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরবর্তিতে এ নিয়ে মামলাও করে দুদক।

কমলেশ সরকার আরও জানান, ওয়াজেদ রিসার্চ ইস্টিটিউটে আবাসিক হল এবং কনফারেন্স হলের বাজেট না থাকায় ডিপিপি তা অনুমোদন দেননি। অনুমোদন ছাড়াই এ দুটি ভবনের কাজ করায় এড়িয়া বেড়ে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, প্রায় এক বছর নির্মাণ কাজ চলার পরে ভবন দুটির বেশকিছু পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালীন নিয়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী খোলামাঠে ফেলে চলে যাওয়ায় মরিচা ধরে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নির্ধারিত সময়ে ছাত্রীদের হল নির্মাণ না হওয়ায় দেখা দিয়েছে চরম আবাসিক সংকট। রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার স্বামীর নামে দুটি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে থাকা খুবই দুঃখজনক। গত প্রশাসন কাজগুলিতে গাফলতি ও অনিয়ম করায় এতে প্রকট সমস্যা দেখা দেয় যার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মানুযায়ী সবকিছু করায় কাজগুলো শুরু করতে একটু বিলম্ব হলো। আশা করি এখন সবকিছু ঠিকঠাক আছে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *