এরশাদের মৃত্যু শয্যায় পাশে নেই নেতারা : বিদিশা

Breaking News: প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ বলেছেন, “একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট কতটা অসহায় হলে থানায় ডায়েরি করতে যেতে হয়, তার সম্পদের উত্তরাধিকার ঠিক করতে হয়, স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাত হয়, জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে থানায় মামলা করতে হয়। হাসপাতালে ঘুমাতে হয়।”

বিদিশা বলেন, অনেক কিছু থেকেও কিছুই নেই আজ। মৃত্যু শয্যায় আজ পাশে আপন কেউ নেই, কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত তাকে ( হু মু এরশাদ) কে আজকের এই পর্যায়ে একা পরিবার বিহীন করেছে।”

সম্প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন সাবেক স্ত্রী বিদিশা। গত ৫ মে বিদিশা এ স্ট্যাটাস নিজের পেজে পোস্ট করেন।

এই ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিদিশা লেখেন, আমার ছোট শিশু এরিক-ই উনার শেষ ভরসা। এরিক কতটুকুই বা বুঝে, বয়সই বা কত, তাছাড়া এরিক কিছুটা শারীরিকভাবে স্পেশাল চাইল্ড। ভালভাবে হাঁটতে ওর কষ্ট হয়। এই অবস্থায় প্রতিদিন ওর ড্যাডি ঘুমিয়ে গেলে সবথেকে বেশি টেনশন হয় ওর। ছোট্ট হাত দিয়ে ড্যাডির নাকের কাছে শ্বাস-প্রশ্বাস চেক করে দেখে। হাত পায়ের আঙুল টেনে ধরে জিজ্ঞেস করে ড্যাডি ঠিক আছো তো ? তোমার শরীরের অবস্থা কি? হসপিটাল যাবে কি ? সারাক্ষণ ড্যাডির মৃত্যু ভয় ওকে তাড়া করে বেড়ায়।

বিদিশার এমন স্ট্যাটাসে অনলাইনজুড়ে হৈচৈ দেখা দিয়েছে। এই স্ট্যাটাসে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে। সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদ এই স্ট্যাটাসটির কিয়দাংশ নিয়ে টাইম লাইনে মন্তব্য প্রতিবেদন আকারে লিখেছেন। সেখানেও অনেককে নানা ধরনের কমেন্ট করতে দেখা গেছে। শিরু বাঙ্গালী লিখেছেন,
“আমরা হয়তো হাসতে পারি, উপহাস করতে পারি, কিন্তু বিদিশা চরম সত্য উচ্চারণ করেছে। কী মর্মান্তিক জীবন বেচারা এরশাদের। একসময় এরশাদকে ঘৃণা করেছি। আজ সত্যি তাঁর জন্য মনে কিছুটা সহানুভূতির জন্ম হচ্ছে।”

শেখ রাজিয়া রাখি সান্নি বলেছেন,” কথায় আছে সবই বুঝবে তবে সময় থাকতে নয়। আল্লাহ সহায় হোন।” অলোক কুমার বিশ্বাস নামে একজন লিখেছেন, “এটাই নিয়ম। তিনি যখন আনন্দ ফুর্তি করেছেন তখনতো একা একাই করেছেন!
এমন কাজ করা উচিত যা আশেপাশের সকলে মিলে উপোভোগ করা যায় তাহলে হয়তো এইরকম নাও হতে পারতো!”

ফেসবুক জুড়ে এমন কমেন্টগুলো যে খুব মিথ্যা নয় তার প্রমাণ মিলে বিদিশার স্ট্যাটাসেই। এরশাদের সাবেক এই স্ত্রী লিখেছেন, “জাতীয় পার্টি মামা, আংকেল এমপি রা ও আর ঘন ঘন বাসায় আসেন না। কেউ আর আগের মতো ডিনার ও পাঠায় না।”

ক্ষোভঝড়া কণ্ঠে বিদিশা লিখেছেন, “আগে দেখতাম অনেকে এরশাদ সাহেব এর কাছে পদ-পদবীর জন্য আসতো বা ভিড় জমাতো এখন শুনি পত্র-পত্রিকায় দেখি ব্যতিক্রম কিছু মানুষ ছাড়া সম্পদের ভাগবাটোয়ারা, দলীয় ক্ষমতা কিভাবে কাকে ডিঙিয়ে কে নিবে তা নিয়ে সবাই ব্যস্ত। উনাকে মানসিকভাবে এত দুর্বল করা হয়েছে যে মরার আগেই উনি যেনো মৃত! আজ নিজের কবরের জায়গা ও নিজেকে কিনতে হচ্ছে। বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে গিয়েছে । উনার কোন দুর্ঘটনা ঘটলে মনে হয় অনেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে , ক্ষুধার্ত শকুনেরা যেন খাদ্যের জন্য অপেক্ষায় আছে।”

বিদিশা কেন এরশাদের পক্ষ নিয়ে এমন স্ট্যাটাস দিল তা নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারেক সালমান নামে একজন লিখেছেন,” বিষয়টি একদিকে যেমন দুঃখজনক, অন্যদিকে স্বৈরাচারের পরিণতি বা নিয়তি হিসেবে দেখলে আফসোসের কিছু নেই। কিন্তু যে মহিলা ডিভোর্সি, যার সঙ্গে এরশাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তার এত আফসোস কি মিন করে? তার আক্ষেপের কারণটাও অন্য কিছু না। এখন যদি কোনোভাবে হুমুর ( হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ) পাশে থাকতে পারত তাহলে শেষ মুহুর্তের হালুয়া-রুটির ভাগ সেও পেত। সেজন্যই বারবার তার এ লোক দেখানো দীর্ঘস্বাস।” মনিরুজ্জামান মাসুদ নামে একজন লিখেছেন, “জীবনের কিছু কিছু ভুল আসলে জীবন কে সত্যিই অসহায় ও দুর্বিসহ করে তোলে।”

ফেসবুক স্ট্যাটাসটির কোথাও কোথাও প্রকাশ পেয়েছে বিদিশার পরম মাতৃত্ব। তিনি নিজের শিশু সন্তান এরিককে নিয়ে লিখেছেন, ” কত যন্ত্রণা নিয়ে সময় কাটে আমার এরিকের । আজকাল স্কুলে গেলে ও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসতে হয় । আমি এরিক এর মা, একজন মা হিসাবে এই কষ্ট আমাকে কতটুকু নাড়া দেয় শুধু মা জাতি বুঝতে পারবে। এই অবস্থায় বাপ-বেটার জন্য অনুশোচনা বোধ থাকলেও আমারই কি’বা করার আছে ? ”

এরশাদ সাহেবের অবর্তমানে নিজের ভবিষ্যত শংকা নিয়ে বিদিশা লিখেছেন, “বাড়ি, গাড়ি, ট্রাস্ট কোনকিছুই দরকার নেই এরিকের । মায়ের যা আছে তা দিয়ে ডাল, ভাত খেয়ে বড় হতে পারবে অনায়াসে। আজ শুধু প্রয়োজন ছিল পিতা মাতার দুইজনের সঙ্গ। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে এরিক আজ মায়ের আদর থেকেও বঞ্চিত। এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে এরশাদ সাহেব এর অবর্তমানে এরিক এর অবস্থা নিয়ে আমি শংকিত। ”

প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত বিদিশা এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিদিশার বাবা আবু বক্কর একজন বিখ্যাত সমসাময়িক কবি। এরশাদ ও বিদিশা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এমন খবর প্রথম আলোচনায় আসে ২০০০ সালে। তবে সে সংসার সুখের হয়নি। একপর্যায়ে ঘরভাঙ্গে এবং বিদিশাকে চুরির মামলায় জেলে পাঠান এরশাদ। যদিও রহস্যজনক কারণে এরশাদ- বিদিশার সম্পর্ক নিয়ে লোকমুখে সবসময় গুঞ্জন ছিল। ইতোমধ্যে যতোবারই এরশাদ ভারত সফরে গেছেন ততোবারই সেখানে বিদিশা অবস্থান করছেন এমন খবর শুনা গেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *