বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গা হবে কন্ট্রোলড ডিমোলেশিং

Breaking News: অর্থনীতি প্রধান সংবাদ বাণিজ্য বিবিধ

রাজধানীর হাতিরঝিলে তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কন্ট্রোলড ডিমোলেশিং (নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ) এর মাধ্যমে এই ভবন ভাঙ্গা হবে। কারণ সাধারণ যন্ত্রপাতি এই ভবন ভাঙ্গা যাবে না। তাই এ বিষয়ে চীনের কথা চলছে বলে জানিয়েছেন রাজউকের কর্মকর্তা।

অনেকেই বিজিএমএর ভবনটি ভাঙ্গতে পারবে বলে মনে করিছিলেন। অনেকের মনে এমন ধারণা ছিল যে, এটা ব্যবসায়ীদের ভবন এটা ভাঙ্গতে পারবে না। সেটা ভুল প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।

হাতিরঝিলের ক্যান্সার হিসেবে অবিহিত করা হয় এই বিজিএমইএ ভবনটিকে। হাইকোর্ট এই ভবনটি ভাঙ্গার জন্য অনেক আগেই রায় দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভবনটি ভাঙ্গার জন্য প্রস্তুতি নেয় রাজউক। কিন্তু ভবনের ভেতর প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরোধে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। পরে আরও দু ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া। আর সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে অবৈধ বিবেচিত রাজধানীর হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল থেকে শুরু করে রাজউক।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী ও হাতিরঝিল প্রকল্প পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, আমরা ইতোপূর্বে চাইনিজ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সহযোগিতায় কন্ট্রোলড ডিমোলেশিং (নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবনটি ভাঙা হবে। এই ভবনটি ভাঙ্গতে অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, এর আগে র‌্যাংগস ভবন অপসারণ করতে বেশকিছু ক্যাজুয়ালিটি হয়েছিল। আমরা চাই এ ভবনটি সঠিকভাবে অপসারণ করতে। তাই চাইনিজ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কন্ট্রোলড ডিমোলেশিং পদ্ধতিতে এটি অপসারণ করা হবে। অপসারণের অংশ হিসেবে আমরা এ ভবনটির ইউটিলিটি সার্ভিস বিচ্ছিন্ন করব। তিনি জানান, এর আগে র্যাংকস ভবন ভাঙ্গার সময় কয়েকজন শ্রমিক মারা গেয়েছিলেন। এবার এর রকম ঝুঁকি নিতে চায় না রাজউক।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, কন্ট্রোলড ডিমোলেশিং একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। এটি একটি বিশাল ভবন। এখানকার গ্লাসগুলো আগে খুলে ফেলতে হবে। এছাড়া আরও অনেক বিষয় আছে, যা সম্পন্ন করার পরই অপসারণ করা হবে ভবনটি।

আদালত সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিল। আর আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতেই কাজ করছে রাজউক বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন। বিজিএমই এর ভবনটি নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। অবশেষে ভাঙ্গার প্রক্রিয়া শুরু হলো। এর আগে চলতি মাসেই উত্তরায় বিজিএমইর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ভবন তৈরির আগ পর্যন্ত বিজিএমই বার বার সময় নিয়েছে ভাঙ্গা রোধে। এবার আর ভাঙ্গা রোধে তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে নাই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *