কাল-পরশুর মধ্যে শপথ নিতে পারে বিএনপির চার এমপি

Breaking News: প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে দলটি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তারসহ চারজন। বগুড়া-৪ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি এখনও দলীয় সিদ্ধান্তে অনড় আছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেখানেই থাকব। তবে দলের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। এ ব্যাপারে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের কার্যালয়ে যোগাযোগও করেছেন। যদিও এ বিষয়ে তারা মুখ খুলতে নারাজ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ছয় আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হয় বলে অভিযোগ তুলে বিএনপি সিন্ধান্ত নেয় তাদের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নিবেন না। কিন্তু জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন দুই দিন আগে। তার শপথ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ।

শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাহিদুর রহমানকে বহিস্কার করা হয়।

তবে, এটাও জানা যাচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বাদে বাকি চার সদস্যও শপথ নিচ্ছেন। চারজনরে মধ্যে তিনজন শপথ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানা গেছে। আর একজন দোটানায় রয়েছে। একবার শপথ নিতে চাচ্ছেন আবার আরেকবার শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে চাচ্ছেন।
আর এই শপথ নেওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভেদ। এতে দলের ভাঙন যেকোনো সময় বলেই অনেকেই মনে করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাহিদুর রহমানকে বহিস্কারের বিষয়টি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন তারা সংসদে শপথ নেবেন না। এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিজয়ী জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ায় তাকে সর্বসম্মতভাবে আজকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান প্রমুখ।

আর শপথ নেওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এদিকে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, শপথ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করছেন, সরকার দলের নেতাকর্মীদের চাপে রাখছেন।

আর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারো দলের ভাঙা গড়া তার দলের কাজ নয়। সরকার এর সাথে কোনোভাবে জড়িত নয়। আর শপথ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। এটা তাদের দলের ব্যাপার এবং জনগণের ব্যাপার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *