ফেসবুক আসক্তি মাদকাসক্তি মাদকের মতো ভয়াবহ

Breaking News: আন্তর্জাতিক এশিয়া তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান সংবাদ

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলো নাগরিক জীবনে এনেছে পরিপূর্ণতা অনেকেই দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবাই দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে। এ জন্য প্রযোজনীয়তা বাড়তেছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু যুক্তরাজ্যের হার্লি স্ট্রিট রিহ্যাব ক্লিনিকের একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারের আসক্তি মাদকের মতোই। মাদককে যেমন কেউ পরিহার করতে পারে না তেমিন ফেসবুকও ব্যবহার পরিহার করতে পারে না। আসক্তির হয়ে পড়ে অনেকের কাছেই।

ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করেন অনেকেই। এর ফলে অন্য কাজ করার সময় থাকে না বলে জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্স বিভাগের পরিচালক ড. পিটার হোয়াইব্রোর মতে, স্মার্টফোন/ ট্যাব স্ক্রিন হলো ইলেক্ট্রনিক কোকেন। চীনা গবেষকরা একে বলছেন ডিজিটাল হেরোইন। আর পেন্টাগন ও ইউএস নেভির অ্যাডিকশন রিসার্চ বিভাগ ভিডিও গেম ও স্ক্রিন টেকনোলজিকে অভিহিত করেছে ডিজিটাল মাদক হিসেবে।

নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়। বলা হয়, ফেসবুক যে আসক্তি তা বোঝার জন্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আচরণের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। জীবনের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকা, জেদ, পলায়নী মনোবৃত্তি, মুড নির্ভরতা, গোপন প্রবণতা- ইত্যাদি যে সব বৈশিষ্ট্য একজন আসক্ত মানুষের থাকে, ফেসবুকের অতি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও তা দেখা গেছে।

এমনকি মাদকাসক্তির চিকিৎসা করানোর সময় রোগীদের মধ্যে যে সব উপসর্গ দেখা যায়, ফেসবুক বন্ধ করে দিলেও একই উপসর্গ দেখা গেছে। মাদক না পেলে একজন আসক্ত যেমন অস্থির হয়ে পড়ে, অশান্ত হয়ে ওঠে, ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলেও তাদের মধ্যে এমনি অস্থিরতা, অশান্তি দেখা দেয়।

তাই ফেসবুকের এই আসক্তি নিয়ে এখনই ভাবা দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন। যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য মাদককে যেযেমন না বলতে হচ্ছে তেমনি ফেসবুক ব্যবহারেও সতর্ক হতে হবে। যাতে ফেসবুকে আসক্ত হয়ে না পড়ে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *