প্রেমহীন প্রেমের সিনেমা: রিফাত মিন্নি নয়ন বন্ড

মতামত

আরিফ হাসান:

অনেক দিন আগে আমি তখন হাইস্কুলে পড়তাম সম্ভবত। একটা বাংলা সিনেমা দেখেছিলাম একটা গান ছিল সিনেমাটিতে গানটি এমন – “বিধি তুমি বলে দাও আমি কার,দুটি মানুষ একটি মনের দাবিদার “.! কয়েকদিন থেকে গানটির কথা বারবার মনে পড়ছে। হাসছি.! ভাবছি লিখবো কিছু একটা। আবার ভাবছি না থাক.! কি দরকার.! পাঠক, ভাববেন আমি কোন সিনেমার রিভিউ লিখছি।

বলতে চাচ্ছি বরগুনার সেই রিফাত হত্যার নায়ক নায়িকা আর খলনায়ক নিয়ে। যদিও নায়ক আর খলনায়ক দুজনই এখন মৃত.! তাহলে লিখি কাকে নিয়ে.? ভাবছি..! কি করা যায়.! বোকা আমি, আরে নায়িকা তো জীবিত আছেই। মহান ও মহৎ নায়িকা। এমন নায়িকা সমাজে অনেক ডা. মিতুর কথা মনে আছে নিশ্চয়ই আপনাদের। যার জন্য ডা. আকাশ শূন্যে ম্লান হলো। এগুলো ফ্ল্যাশ হও নায়িকা। কিন্তু এমন আন রিজিষ্ট গল্প সমাজে অহরহ আছে। আমরা জানি। জেনেও না জানার ভান করি হয়তো এতেই সুখ। আমার মতে সমাজে নারীরা যতটা নিরাপদ একটা পুরুষ তার দুইঞ্চি ও নিরাপদ না.! এখন আপনি বলতে পারেন তাহলে সমাজে এত ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটছে কেন.? এই প্রশ্ন আমাকে করলে আমি সোজা উত্তর এটাই দিব যে, যদি প্রমাণ হয় সে ধর্ষক তাহলে তার শাস্তি” মৃত্যুদন্ড” করা হোক।

কিন্তু মিন্নি..! মিন্নিরা তো জানে সে যাই করুক আইন সমাজ তার চুলও স্পর্শ করতে পারবা না। এজন্য মিন্নিরা একসাথে দুটো স্বামী ধারণ করে। একজন সকালে নদী পাড় করে দিবে আরেকজন ওই পাড় থেকে এপাড়ে নিয়ে আসবে। মজ্জা না..! দারুণ মজ্জা কিন্তু.! রাতে একজনের বঁধূ হবে দিনে আরেকজনের বউ সাজবে। আচ্ছা,তসলিমা নাসরিন কি মিন্নির পক্ষে কথা বলবে.! নাকি বিপক্ষে.! তার কাছে তো প্রেমই মুক্ষ। রিফাত মিন্নি আর নয়ন বন্ডের মাঝে প্রেমটা কোথায়.? আমি বুঝিনা। বুঝতে চাইও না। মিন্নি হচ্ছে ডাবল সিম ওয়ালা স্মার্ট ফোন। আমি কখনোই নয়ন বন্ডের পক্ষে নই। কারণ পূর্বের করা কিছু কাজ বলে না ব্যাত্ত্বি হিসাবে সে ভাল ছিল।

কিন্তু মিন্নির মধ্যে কি পেল এই দুজন আবাল প্রেমিক যে মেরে ফেলার মত সিদ্ধান্ত নিতে হল.! নাকি মিন্নিই বলেছে রাস্তায় কাটা থাকলে কি হাটা যায়.! ভিডিও ফুটেজ এ তো একবার ও মিন্নি কে বুক ফেটে কাঁদতে দেখলাম না। রিফাত দা এর আঘাতগুলো পাওয়ার পরও তো মিন্নি ছুটে গিয়ে রিফাত এর হাত ধরল না। রিফার মিন্নির দিকে একবার ঘুরেও তাকালও না। কেন রিফাত.? খুব ঘৃণা লাগছিল মেয়েটির দিকে তাকাতে তাই না.! কেনই বা তাকাবা.! তুমি তো জানতে ভাইয়া এই মেয়েটি কত্ত বড় মাপের একটা প্রতারক। রিফাত নেই এবার মিন্নির দিন গুনার পালা এই তো আর কিছুদিন গেলেই সবাই মিন্নির নতুন বিয়ের দাওয়াত পাবে। আহ কি সুখ.!রিফাত এর প্রতিটি দা এর কোপ প্রত্যেকটি পুরুষের জন্য অপমানজনক। দা এর কোপগুলো বিবেক এ লাগে।

যদিও এই বিবেক সবকিছু মেনে নিয়ে রাস্তায় চোখ বন্ধ করে চলা বিবেক। আরে পাবলিক, ভুলে যান কেন এর পর আপনার পালা.! মিন্নি কি থেমে থাকে.! মিন্নিরা থেমে যায়.! যায় না। বরংচো আপনি চুপ মেরে যাবেন সমাজ সভ্যতার যাতাকলে পড়ে। আর কত.? সিনেমা সিনেমাহলে গিয়ে দেখতে ভাল লাগে। চাইনা আপনার আমার জীবনে তা ঘটুক আর সিনেমার টাইটেল হোক একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে।

ট্রয়ের নায়ক আজ কি কেউ হতে চায়.? আমিতো জানি টাইটানিক হয়ে প্রত্যেক প্রেমিক ভাষতে চায়।প্রেমটা প্রেমই হোক। আর অপ্রেম ফোঁড়ার পুজের মত ঝড়ে পরুক। ছেলেগুলো মেয়েদের ক্যাবলা ছ্যাবলা হাসি তে প্রাণ খুঁজে পায় কেন.? এতে মিন্নিরা গুরুত্ব পায় বেশি। এটা কি ছেলেরা বুঝেনা.? বোঝা উচিত। বুঝে বুঝে প্রতিটি প্রাণ প্রেমিক হোক। আর মিন্নিদের প্রতারণা থেকে মুক্তি পাক।

লেখকও গবেষক: আরিফ হাসান।
নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগে কর্মরত।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ত্রিশাল ময়মনসিংহ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *