একজন অপ্রিয়া সাহা

মতামত

আরিফ হাসান:

আমার জন্মস্থান বলতে গেলেই একটা হিন্দু পাড়াতে। ছোট বেলা থেকেই আমি চাচা-চাচি বলা শিখিনি, শিখেছি কাক-কাকি, দাদা-দিদি এসব বলা। ওই কাকারাই আমাকে সব সময় কোলে নিয়ে থাকতেন।চকলেট আইস্ক্রিম কিনে দিতেন। আমি আমার আপন চাচা যারা তাদের চাচা ডাকি না “কাকা” ডাকি।আমার খুব ভালো লাগে শান্তি লাগে।

গত কয়েক বছর আগে দুর্গা পূজা রোজার মাসেই হয়েছে। আমার বাসা থেকে বের হয়ে মন্দির পার হয়ে তারপর মসজিদে যেতে হয়। পূজায় অনেক মাইক বাজে হৈ-হুল্লোড় হয়। ছেলেমেয়েরা নাচানাচি করে। কিন্তু আযান এর ধ্বনি এলেই কোন না কোন দাদা মাইক বন্ধের কথা বলতেন-ওই,আযান দেয় গান বন্ধ কর। নামাজ শেষে আবার গান বাজতো। রোজার মাস তারাবি নামাজ একটা বিশাল বিষয়।কাকারা আগেই জিজ্ঞেস করতো বাবা তোমাদের নামাজ শেষ কখন.? নামাজ শেষ হলেই ঢাকের আওয়াজ শোনা যেত। আমি নামাজ শেষে কতোবার যে আরতি দেখতে গিয়েছিলাম। এখন লিখছি আর মনে পরছে.!কাকিদের হাতের নাড়ুর যে স্বাদ,কই অনেক নাড়ুই তো খাচ্ছি ওই স্বাদ তো পাচ্ছি না।

কোনদিন দেখিনি। ওই কাকারা তাদের পারিবারিক কোন সিদ্ধান্ত আমার বাবাকে ছাড়া নিয়েছে। বা তাদের কোন বড় পারিবারিক অনুষ্ঠান আমাদের ছাড়া হয়েছে। এই সম্পর্ক গুলো কিসের আমার জানার খুব ইচ্ছা.!সবার কাছে না আমি “প্রিয়া সাহা র” কাছে জানতে চাই.! উত্তর দিবেন আশা করি।

১৬জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযোগ করেছেন যে- বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নাকি নিখোঁজ.! আরও বলেছেন যে, ১কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু বাড়িঘর নাকি পুড়ে দেয়া হয়েছে। তারা অসহায় বাড়িঘর হারিয়ে পথে ঘাটে ঘুড়ে বেরায়। তাদের নাকি খোঁজ নেয় না সরকার.! জনাব প্রিয়া সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। এই শিখলেন.! আপনার তো বাংলাস্থান এ না থেকে হিন্দুস্তান এ থাকা উচিত।

ভারতে মুসলিমরা কেমন আছেন.?মিয়ানমারে মুসলিমরা কেমন আছে.? আপনি বাংলাদেশি হিসাবে দেশে কেমন ছিলেন.? উত্তর দিন.! আপনাকে কেউ জোর করে গোমাংস খাওয়ার চেষ্টা কি করেছে.?ইন্ডিয়ার নিউজ পেপার টিভি চ্যানেল দেখুন ওখানে কি হচ্ছে.! রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে বাংলাদেশ এসছে তারা কি অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাধ্য হয়েছে ঘড় ছাড়তে.! আপনি জানেনই তো প্রিয়া সাহা তাহলে কেন দেশ নিয়ে এই গুটি বাজি করলেন.! কিন্তু প্রিয়া সাহা আপনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দেশ নিয়ে ঘসেটি বেগমের মত যে আচরণ করলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত রবার্ট মিলার কিন্তু বলেছেন- না,বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান খুব সৌহার্দ্যপুণ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তারা একে অপরের শুভকাংখি।

১৯৫২-৭১ সালে পাকিস্তানিরা যে বেঈমানী করেছে বাংলাদেশের সাথে। আপনি তার কোন অংশেই কম না। আপনার কাজ তো দেশ বেচে সিগারেট কেনার মত। দেশের মানুষ আজ পানিবন্দি। ট্রাম্পকে সেই বিষয় নিয়ে কিছু বলতেন। ফারাক্কা বাধ নিয়ে মমতার সাথে কথা বলতেন। না,আপনি তা করেননি।এক জীবনে যা পাওয়ার পেয়েই তো গেছেন। আর কি.! একটি বেসরকারি সংস্থা “শারি” নির্বাহী পরিচালক আপনি। স্বামী মলয় সাহা দুনীতি দমন কমিশন (দুদুক) এর উপ পরিচালক। দুই মেয়েসহ আমেরিকার সিটিজেনশিপ.! আহ,আর কি চাই প্রিয়া সাহা.! স্বপ্না আর বাস্তবতার কোন কিছুই নেই আপনার। তারপর ও যে আপনার মত এত উচ্চ শিক্ষিত ক্লিব লিংগ দেশ নিয়ে জুয়া খেলতে চায়.! ভাষা নিয়ে আন্দোলন শেষ করে আমরা জয়ী। এবার আপনি বা আপনারা ধর্ম নিয়ে একটা আন্দোলন ফ্যাসাদ যুদ্ধ বিগ্রহ লাগার ধান্দায় আছেন। ধর্ম লালন করার জিনিস পালন করার জিনিস। সর্বপরি এটা ধারণ করা হয় স্বত্ত্বায়।

কিন্তু আপনার মত কিছু মানুষ তো ধর্ম প্রাণ মানুষের মগজে প্যাথেড্রিন দিয়ে ছারবে। আপনার বাবা-মা কি পাকিস্তানি.? কি জানি….কে জানে..? হতেও পারে.! বাংলাদেশের মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষের এত দুঃখ কষ্ট যাতনা.! যা আপনিই লক্ষ্য করলেন আর ট্রাম্প এর কাছে কানেকানে মন্ত্র মারলেন.!

কিন্তু আমি তো দুর্গা পূজায় ঢাকের সাথে নাচি। মহা ধুমধামে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বরস্বতী দেবী বন্দনা হয়। চার্চে প্রার্থনা হয় নিয়মিত। আপনি দেশে কি দেখলেন.? যাইহোক আপনি আমার চেয়ে হয়তো অতি উন্নত জাতের শিক্ষিত প্রাণী। বাংলাদেশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আপনার অভিযোগ খুব বাজে নোংরা আর বিকৃত মনমানসিকতার পরিচয় দেয়। আচ্ছা,পাঠক এই মহিলা কে দেশে ঢুকতে দেয়া কি উচিত.! জানিনা.. আমার জ্ঞান গরীমা সীমিত.! আপনারাই বলেন। যাইহোক, প্রিয়া সাহা আমার একটা উপকার করবেন,আপনি তো আমেরিকাতেই আছেন দয়া করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানাবেন ভারতের সাথে বাংলাদেশর তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে একটু কথা বলতে,ফারাক্কাবাধ নিয়ে কথা বলতে.!

প্লিজ প্রিয়া সাহা.! উত্তরবংগের মানুষের খুব খারাপ দিন যাচ্ছে বন্যার পানিতে। খুব অসহায় হয়ে.! একটু বলেন না..! প্রিয়া সাহা,ভাববেন না ওখানে মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই এক হাড়িতেই ভাত খাচ্ছে। আপনার যাত যাবে না। আপনি শুধু তিস্তার পানি চুত্তি বিষয়টা উত্থাপন করুন.! কি পারবেন তো.? বানভাসি মানুষ গুলো এক কড়োই এ রাধা তরকারি ভাগ করে খাচ্ছে।আপনার খুব সমস্যা হচ্ছে.! আরে বাদ দেন.! আপনি এত্ত পাওয়ারফুল পাবলিক.! দেশে থাকলে কি ত্রাণ নিয়ে যেতেন.? একটু ফটোসেশান হয়ে যেত.! লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। আরে দরকার কি.! আপনি শুধু ট্রাম্পকে বলেন মমতা কে একটা ফোন দিতে.! কি.. পারবেন না..! আরে,আপনি এত্ত পাওয়ার ফুল মানুষ..! হ্যালো…. হ্যালো…. হ্যালো… প্রিয়া সাহা শুনছেন..!

লেখকও গবেষক: আরিফ হাসান।

নাট্যকলাওপরিবেশনাবিদ্যা বিভাগে কর্মরত।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ত্রিশাল,ময়মনসিংহ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *