নুসরাতকে নিয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা

Breaking News: জাতীয় প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ সারাদেশ

আগুনে পুড়ে নিহত হওয়া ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে নিপীড়ন বিরোধী জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। প্রতিযোগিতার স্লোগান- ‘সাহসিকা নুসরাত, তুমিই যুক্তি তুমিই প্রতিবাদ’।

আগামী শুক্রবার ( ৩ মে) প্রথমবারের মতো নিপীড়ন বিরোধী এই জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় বাছাইকৃত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পর্যায়ের ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ অংশগ্রহণ করবে। চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে যথাক্রমে নগদ দুই লক্ষ, এক লক্ষ ও পঞ্চাশ হাজার টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান অাহমেদ চৌধুরী কিরণ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিবিসি টেলিভিশনের সম্পাদক নবনীতা চৌধুরী, টিভি প্রেজেন্টার প্লাটফর্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোন্দকার ইসমাইল প্রমুখ।

মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, নুসরাতের ঘটনা নতুন কিছু না। তবে নুসরাতের সাহস ও বিচার চাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নুসরাতকে অনেকের মধ্যে ব্যতিক্রম করেছে। নুসরাত একটা সময় বুঝেছে সে বাঁচবে না। কিন্তু তবু সে বিচার চাওয়ার জন্য অনঢ় ছিল।

সুলতানা কামাল অারো বলেন, দেশে ৮৭ ভাগ নারী কোন না কোন ভাবে নিপীড়নের শিকার। এদের মধ্যে মাত্র ৩ ভাগ নারী বিচার পায়। নুসরাতের উপর যে ঘটনা ঘটেছে সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ার হার মাত্র ০.৩ ভাগ।

অায়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশে গণপরিবহনগুলোতে ৯৪ ভাগ নারী নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। গণপরিবহনে নারী নিপীড়নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে নিচে। রাজনৈতিক পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বহুবিধ কারণেই নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের হার বাড়ছে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিংমল, মেলা, পার্ক, বিভিন্ন পাবলিক প্লেস সবজায়গায় নিপীড়নের হার বাড়ছে যা খুব উদ্বেগজনক।

বক্তারা বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, যৌতুক, নারীর ক্ষমতার অপর্যাপ্ততা, মূল্যবোধের অভাব, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, আইনশৃংখলা বাহিনীর কিছু সদস্যের দায়িত্ববোধের অভাব- এসবই দায়ী। বক্তারা অারো বলেন, শুধু আইনের প্রয়োগ ও শাস্তি দিয়ে নিপীড়ন বন্ধ করা সম্ভব নয়। নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন ও শাস্তি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারনা চালাতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নিপীড়ন বিরোধী বিষয়ক গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি নিজ মাদ্রাসার ছাদে দৃর্বুত্তদের হাতে অাগুনে পুড়ে দগ্ধ হন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে মারা যান। এই ঘটনায় অভিযুক্ত একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *