সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়েই নুসরাত হত্যার বিচারে দাবি

Breaking News: জাতীয় প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ সারাদেশ

ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত বুধবার রাতে মারা গেছেন। আগুনে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়।নুসরাতের হত্যার বিচারের দাবিতে সারাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছে। ফেসবুক জুড়েই নুসরাত হত্যার বিচার চেয়েছেন সবাই। সবার দাবি এই হত্যাকারীর দ্রুত বিচার হোক। এখন ফেসবুকের ওয়াল জুড়েই নুসরাতের ছবি। সবার একটাই দাবি তার হত্যাকারী সেই নরপশুর শাস্তি দাবি। তার যাতে দ্রুত বিচার হয় সেটাই দাবি করেছেন সবাই। এদিকে, বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, অপরাধীর শাস্তি যাতে নিশ্চিত করা হয়। দ্রুত সময়ে এই হত্যার বিচার হয়।

নিহত ছাত্রীর বাবা একেএম মানিক বলেছেন, আমার মেয়ে তো চলে গেছে। আর ফিরে আসবে না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই। দ্রুত সময়ে যেনো তার বিচার হয়। বৃহস্পতির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার সময়, হাসপাতালে বসে কাঁদছিলেন নুসরাতের বাবা, আর কাঁদতে কাঁদতে মুর্ছা যাচ্ছেন নুসরাতের বড় ভাই। তাদরে কাঁন্না দেখে উপস্থিত সবাই চোখে চর আসছে। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই কারো।

ডা. সামন্ত লাল যখন এসে বলছিলেন, আমরা আপনার মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারলাম না। নুসরাতের বাবা বলছিলেন, আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন, চেষ্টা করেছেন। আমার মেয়ে চলে গেলো। আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন বেহেস্ত পায় কান্না জনিত কণ্ঠে তিনি কথাগুলো বলছিলেন।

তিনি কেদে কেদে আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার মেয়ের জন্য অনেক করেছেন। এখানকার চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যখন নুসরাতের লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল চলছিল তখন বাইরে অপেক্ষমাণ বাবা এই কথা বলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত মারা যান। সুরতহাল করে লাশ তার বাবার কাছে বুঝে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নুসরাতের মরদেহ গ্রহণ করতে তার বাবা একেএম মানিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জেনারেল মাসুদ চৌধুরী ও সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন।
নুসরাতের মৃত্যুতে সারা দেশে সারধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুসরাতের হত্যাকারীর শাস্তির দাবিতে মতামত দিচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা এই হত্যাকারী ও তাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছেন।

পাশাপাশি ফেসবুক জুড়ে চলছে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবিতে পোস্ট। প্রায় সবাই বলছে ওই খুনির দায়ে অভিযুক্ত মাদরা শিক্ষক সিরাজ-উদ দৌলার ফাঁসি। তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছেন সবাই।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা এর আগে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

কিন্তু সেই অধ্যাক্ষের অন্যায়ের কাছে নতি শিকার করেননি নুসরাত। তিনি মামলা তুলে নিবেনা বলে জানিয়ে দেন। আর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হতে হলো তাকে লাশ।

গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। এতে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলেন হামলাকারীরা। কিন্তু তিনি রাজি হননি। পরে বোরকা পরিহিত ৪/৫ ব্যক্তি নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

তার অবস্থার অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপকে নির্দেশ দেন। চিকিৎসকার তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের সাথে কথা বলে, তারা জানান অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে পাঠানো যাবে না। লাইফ সাপোটে থেকেই তিনি না ফেরার দেশে পারি জমান বুধবার রাতে।

নুসরাতকে হারিয়ে কাঁদছেন বাবা, মুর্ছা যাচ্ছেন ভাই

 

মেয়ে আর ফেরে আসবে না, হত্যাকারীর বিচার চাই: নুসরাতের বাবা

Spread the love

1 thought on “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়েই নুসরাত হত্যার বিচারে দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *