তোপের মুখে গণফোরামের দুই এমপি

Breaking News: প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

গণফোরামের দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন। দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গিয়ে শপথ নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়ায় এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মতামত দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণফোরাম। সোমবার সন্ধ্যায় দলের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের মনোনয়নে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ধানের শীষ এবং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত এ দুই সংসদ সদস্য শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে সোমবার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে গণফোরামের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটগতভাবে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে। ঐক্যজোটের নেতারা বলেছেন, ড. কামাল হোসেন দেশে ফিরলে শপথসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় দলের কাউন্সিলের নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিতে সোমবার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। সেখানে দলটির ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ ও যুব গণফোরামের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘দালাল দালাল’ বলে স্লোগানও দেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সেখানে অল্প কিছু সময় অবস্থান করে বের হয়ে যান তারা।

এ বিষয়ে গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় ও অটুট আছে। গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে যোগ দিচ্ছেন- এ ধরনের সংবাদ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যা অসত্য ও ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল আছে। সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে গণফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সংসদ সদস্যের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও বহাল আছে।

দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সংসদে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। গণফোরামের এই সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচিতরা কিছু করলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ করণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব জানান, সংসদে গিয়ে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। এটা ঐক্যফ্রন্টের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত। এখনও তারা শপথ নিতে যাননি। তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমে তাদের মতামত দেওয়ার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কী করা যায়- তা নিয়ে তারা বৈঠক করেছেন। তবে ঐক্যফ্রন্ট ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা কিছু করবেন না বলে মনে করছেন রব।

তবে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই দলে তার প্রাথমিক সদস্য হওয়ার আবেদন ও তা অনুমোদনের চিঠি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে গণফোরাম। গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি এ আবেদন করেন এবং ওইদিনই তাকে প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, এই দুই নেতা দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেওয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য নির্দেশ দেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় শুরুতেই দুই নেতা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজেদের মত দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই নেতাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। দলের সভাপতি দেশের বাইরে থাকায় গতকাল এই শোকজ দেওয়া না হলেও আজকালের মধ্যে তা দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের এক নেতা জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দেশের বাইরে রয়েছেন। তাদের ফিরে আসা পর্যন্তও অপেক্ষায় থাকতে চাইছেন না তারা।

Spread the love

1 thought on “তোপের মুখে গণফোরামের দুই এমপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *