খালেদা জিয়ার কারজীবনের এক বছর

Breaking News: আইন ও বিচার প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ রাজনীতি

৮ ফেব্রুয়ারি, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হলো। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের রয়েছেন একমাত্র কয়েদী হিসেবে খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের কারণে কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। সেই থেকে খালেদা জিয়া বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত হতে হলে চারটি মামলায় জামিন পেতে হবে। জিয়া অরফানেজ মামলায় হাইকোর্টের ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হলে জামিন আবেদন করবেন তার আইনজীবীরা। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে করা আপিলের জামিন আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় হত্যা মামলা ও মানহানির একটি মামলায় তার জামিন হয়নি এখনো। এসব মামলার ১৬টি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চ আদালতে ১১টির বিচার স্থগিত আছে। আর বাকি ২০টি মামলার কোনোটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনের সাধারণ প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা কঠিন হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় রাজপথ উত্তপ্ত করা। যতদিন পর্যন্ত রাজপথ উত্তপ্ত না হবে, ততদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের করা যাবে না। এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১০ বছরে ৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৫টি, নাশকতার ১৬টি, মানহানির ৪টি, ৩টি হত্যা, মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার ২টি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি, ভুয়া জন্মদিন পালনের একটি, সাবেক নৌমন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার একটি, জাতীয় পতাকার অবমাননার একটি, ড্যান্ডি ডাইংয়ের অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন একটি এবং বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে একটি দেওয়ানী মামলা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।

খালেদা জিয়া এর আগে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি, ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময়গুলোতে বেশিদিন তাকে কারাগারে থাকতে হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৩৭২ দিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে ঢুকেন খালেদা জিয়া সব শেষে। আর তখন থেকেই জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসমি হিসেবে। আর তার বড় ছেলে তারেক জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি হিসেবে বিদেশে পলায়নরত অবস্থায় রয়েছেন। ছোট ছেলে আরাফার রহমান কোকো ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় খালেদা জিয়ার কারাজীবন।

Spread the love

1 thought on “খালেদা জিয়ার কারজীবনের এক বছর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *