কার্বন নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার

মতামত

মো. মোশারফ হোসাইন:

জলবায়ু পরিবর্তন মানেই কার্বন (Specially CO2) এর কথা চলে আসে, আর এ নিয়ে সারা বিশ্বে বর্তমানে ব্যাপক উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ করে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে, তখন বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো সেই নিঃসরিত কার্বন গ্রহণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বিশ্বকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করছে।

বাংলাদেশে স্বল্প পরিমাণে শিল্প-কারখানা থাকায় উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অত্যন্ত কম পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে যার অবদান নেই বলেই চলে। কারণ বাংলাদেশের আউস, আমন ও বোরো মওসুমের ধান গাছ প্রতি বছর 50 মিলিয়ন টন কার্বন গ্রহণ করে (IPCC, 2017) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। তাই কিয়োটা প্রটোকলের (১৯৯৭ সালে জাপানে সাক্ষারিত) ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ওই গ্রহণকৃত কার্বনের জন্য বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাছে অর্থ দাবি করতে পারে। এ ছাড়া এ কার্বন বিক্রি (অবশ‍্য এতে অনেক Technical ব‍্যাপার রয়েছে) করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে। আমাদের চিন্তা চেতনা এইদিকে নাই আমরা আছি বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ নিয়ে। কে কত বড় (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার, জার্মানি, ইতালি ইত‍্যাদি) পতাকা তৈরি করতে পারি, এসব দেশের নামে যেখানে সেখানে কমিটি গঠন করে সভাপতি, সম্পাদক কিংবা সদস্য হতে পারি এবং সুযোগ পেলে মারামারি করতে পারি।

একটা কথা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আমাদের দেশে ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি ইত‍্যাদি দেশে ততটা নেই। পুরানো একটা বাংলা প্রবাদ দিয়ে শেষ করতে চাই, যার বিয়া তার খবর নাই পাড়া পড়শীর ঘুম নাই। আবেগি বাঙালি কবে যে বেগ নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবে আল্লাহই ভালো জানে। তাই বলা যায়, কার্বন নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে ভাবা দরকার। তাতে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে বলেই, প্রত্যাশা রাখি।

লেখক: সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *